|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  তথ্যপ্রযুক্তি
  ফেসবুক অতি মাত্রায় ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে হতাশা !
  Publish Time : 7 April 2019, 6:48:32:PM

মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান : বিশ্বব্যাপী এখন যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ফেসবুক। অর্থ যেমন অনেক সময় অনর্থের মূল হয়ে দাঁড়ায়। ফেসবুক অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের মস্তিষ্কে এক ধরণের বিকৃতি ঘটায়। রাস্তাঘাটে চলার সময় এখন সবারই চোখে পড়ে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সমাজের নানান পেশার মানুষ এখন কানে হেডফোন লাগিয়ে চলাচল করছে। পাশে কি হচ্ছে তার খবর নেই। সে গান শুনছে না স্বপ্নের জগতে আছে তা কেউই বলতে পারে না। বাসে, রাস্তায়, অফিস আদালত এমন কোন জায়গা খুজেঁ পাওয়া যাবেনা যেখানে মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে না। এমন অনেকে আছেন যারা বাথরুমে গেলেও মোবাইল সাথে নিয়ে যান এবং ফেসবুক ব্যবহার করেন। কোন কারণে মন খারাপ, সময়ই কাটছে না। হাতে থাকা মুঠো ফোনে মনের অজান্তেই স্ক্রল করছেন ফেসবুক। কিন্তু জানেন কি ? ফেসবুক আপনাকে আরও বেশী বিষণ্নতা হতাশাগ্রস্থ করে দিতে পারে ? এমনটিই মনে করেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভ্যস্ত ও আসক্ত হয়ে পড়লে সেটা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফেসবুক আমরা ব্যবহার করবো। তবে সেটা অবসর সময় বা একটু আনন্দঘন মুহুর্তে। এখন যদি অফিস সময়ও কেউ কেউ ফেসবুক নিয়ে বসে থাকে সেটা হবে কাজের ফাঁকি অথবা নিজেকে নিজে প্রচার করা। কিছু মানুষ আছে প্রচার বিমুখ। ফেসবুক জীবন সম্পর্কে বাড়ায় হতাশা, করে তোলে নিঃসঙ্গ। জেনে নিন কিভাবে---

মুখোশের আড়ালে থাকতে বাধ্য করেঃ ফেসবুকে সব কিছুই আমরা দেখি পজিটিভ। কিন্তু বাতির নীচে অন্ধকার কথাটা যেমনি সত্যি। তেমনি বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই ফেসবুকে তাদের আনন্দের মুহুর্ত পোষ্ট করতে পছন্দ করেন। দুঃখ কিংবা হতাশার কথা যেন কেউ জেনে না ফেলে সে কারণেও অনেকে ইচ্ছে করে ভালো থাকার অভিনয় করেন। ফেসবুকে আসক্ত হয়ে পড়লে বাধ্য হয়ে মুখোশ পরতে হয় অনেক ক্ষেত্রেই। এটি ধীরে ধীরে জীবন সম্পর্কে হতাশ করে ফেলে। আবার অনেকেই খুব দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়ার খবর জানান ফেসবুুেক, আসলে তিনি হয়তো আছেন তার নিজের বাসায়ই। এই ধরণের অভিনয় কারণেও একটা পর্যায়ে এসে হতাশা কাজ করতে শুরু করে। ফেসবুকে অনেকে বিদেশীদের সাথে বন্ধুত্ব করে, একপর্যায়ে দেখা যায় স্বামী-সংসার ফেলে দেশ ছেড়ে চলে আসে বাংলাদেশে। আবদ্ধ হচ্ছে বিবাহ বন্ধনে। এরকম বহু ঘটনা ঘটছে।
তুলনা করতে শেখায়, যা বাড়ায় হিংসা-বিদ্ধেষ, ধরুণ আপনি ভালো কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে হতাশায় ডুবে আছেন। ঠিক এমনই সময় যদি ফেসবুকে দেখেন আপনারই কোনও বন্ধু কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে খুবই আনন্দিত। তবে আপনার হতাশা কিন্তু বাড়বে আরও অনেক গুণ। এই ধরণের বিভিন্ন ঘটনায় অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করে হতাশ হয়ে যান ফেসবুকে।

অনেক সময় অন্যের দেখাদেখি এমন সব চাহিদা বড়তে থাকে যান নিজ সামর্থের বাইরে। ফলে দিন দিন জীবন নিয়ে হতাশা বাড়তে থাকে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের।
অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারী নিঃস্ব করে তোলে-

ফেসবুক যেমন সুফল আছে তেমিন কুফলও আছে। সামাজিকভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে যান ফেসবুকে আসক্তরা।অর্ন্তমুখী স্বভাব যাদের, তারের জন্য এটি আরো ভয়াবহ ফল ডেকে আনে। সবসময় ফেসবুকের মাধ্যমেই যদি মনের ভাব প্রকাশ করতে করতে কেউ অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে সামাজিকভাবে সে হয়ে পড়ে একা ও হতাশ। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি কিংবা পরিবারকে সময় দেওয়ার বদলে সে ফেসবুকে সময় কাটাতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। একটি পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায়, অবনতি হয়েছে সম্পর্কেই। ফেসবুকে কারো আনন্দের জীবন দেখে অভ্যন্ত আপনি যদি হঠাঃ দেখেন, সেগুলো মিথ্যা ছিলো, তবে মানুষ সম্পর্কেই নষ্ট হয়ে যায় বিশ্বাস। তখন কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এছাড়া হঠাৎ ফেসবুকে কারোর সঙ্গে পরিচয় হলেও তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা কঠিন। ফেসবুকের কারণে সব সময় সম্পর্কে বাড়ে সন্দেহ ও কলহ।

একশ্রেণীর অসাধু ব্যবহারকারীর কারণে হয়রানির শিকার হতে হয় অনেককেই। ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি শেয়ার করে অনেকেই পড়েন বিড়ম্বনায়। ফেসবুকের কারণে প্রচুর বিকল্প এখন মানুষের হাতে। এ ধরণের সুযোগ জীবনে অস্থিরতা বাড়ায়। মানুষ অভ্যাসের দাস, তাই এই অভ্যাসটা এটকু ত্যাগ করে, খুব কম সময় ব্যবহার করলেই এই সুন্দর জীবন বিপন্ন হবে না।



   শেয়ার করুন
Share Button
সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 311        
   আপনার মতামত দিন

   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি