|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  ধর্ম ও জীবন
মহা সঙ্কটে আলেম-হাফেজগন, অর্থ যাচ্ছে ত্রাণে
  যাকাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কওমী মাদরাসা
  Publish Time : 11 May 2020, 5:59:33:PM

মিয়া আবদুল হান্নান : করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি থমকে গেছে। উৎপাদন, ভোগ, চাহিদা, জোগান ব্যবস্থাসহ অর্থনীতির সব উপাদান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রয়েছে। ফলে দেশের কর্মক্ষম মানুষ যেমন কষ্টের শিকার হচ্ছেন, একইভাবে সারাদেশে আলেম-হাফেজ মুয়াজ্জিনসহ কওমী অঙ্গনের নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত প্রায় চল্লিশ হাজার মাদরাসা-মক্তবের লাখ লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারী মহা সঙ্কটে জীবন যাপন করছেন।

খোদ রাজধানীতেই হাজার হাজার মাদরাসার ছাত্র-হাফেজ এবং মসজিদের মুয়াজ্জিনরা বাসায় বাসায় টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অনেকেই টিউশনির স্বল্প আয় দিয়েই সংসারের ব্যয়ভার মেটাতেন। মহামারী করোনার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের সব কিছুই এখন বন্ধ। প্রাণঘাতী করোনা ঝড়ে আকষ্মিকভাবে বেফাকভুক্ত এবং অন্যান্য সকল মাদরাসা-মক্তব বন্ধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেকায়দায় পড়েছেন।
রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শত শত মসজিদভিত্তিক নূরানী মক্তব, হিফজখানা ও মহিলা মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারী, মসজিদের মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। আয়-উপার্জনের আর কোনো মাধ্যমও তাদের নেই। সমাজের এ আলেম-হাফেজ-শিক্ষকরা কারো কাছে হাত পাততেও পারেন না। শিক্ষক-কর্মচারীরা বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে পারছে না এবং তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মারাত্মক খাদ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছেন।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মহামারী লকডাউনে গত দু’মাস যাবত এসব দ্বীনি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক জরুরি বৈঠক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ত্রাণ কমিটি গঠন করেছে। বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী গতকাল রোববার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতিসম্প্রতি কয়েকটি কওমী বোর্ডের অধীনে ৬ হাজার ৬৬৯টি মাদরাসায় ৮ কোটি ৩০ লক্ষাধিক নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। যদিও এ অনুদান খুবই অপ্রতুল। ভাড়ায় চালিত বেসরকারি মাদরাসাগুলোর পরিচালকরা কয়েক মাসের মাদরাসার ভাড়া দিতে পারছেন না। চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার ফোরকানিয়া, বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষক ও পরিচালকরা। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর মারকাজুল আজিজ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি ফখরুল ইসলাম গতকাল রোববার সাংবাদিকদেরকে বলেন, করোনা মহামারীতে মাহে রমজানে কওমী নেছাবের মাদরাসাগুলোর ঘরবন্দি শিক্ষক-কর্মচারীরা ধার-দেনা করে দু’বেলার খাবার যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন। লোক-লজ্জায় কারো কাছে হাত পাততেও পারছেন না। তিনি বলেন, আমার মাদরাসায় ২২ জন শিক্ষক গত জানুয়ারি থেকে তাদের বেতন দিতে পারছি না। রমজানে ডোনারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, যাকাতের টাকায় ত্রাণ দিয়ে দিয়েছেন।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের ধর্মশুর হামিদিয়া মাদরাসার মোহতামীম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোঃ নুরুল হক হামিদী (খলিফা পীর সাহেব মধুপুর) বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতিসম্প্রতি কয়েকটি কওমী মাদরাসা বোর্ডের অনুদান দিয়েছেন মাদরাসার জনকল্যাণে তা অতিনগণ্য তারপরেও আমাদের কওমী মাদরাসার মুরব্বীগন তা গ্রহণ করেন নাই। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদের ডেকেছেন , আমরা গিয়ে তা কথাবার্তা শুনে তা আমরা ( অনুদানের টাকা,) গ্রহন করি নাই। মাহে রমজান মাস কওমী নেছাবের মাদরাসা গুলোর ঘরবন্দি শিক্ষক - কর্মচারীরা ধার দেনা জর্জরিত তাদের বেতন দিতে পারতেছিনা। এ প্রতিষ্ঠান চলে আসছে ইসলাম প্রিয় এলাকার ও এলাকার বাহিরের ধর্মীয় চেতনার মানুষগণের সার্বিক অনুদানে। সরকারী অনুদান ছাড়া এসব বড় ছোট মাদরাসা চলে আসছে। এবার হটাৎ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এতিম অসহায় কোরআনে হাফেজ , ছাত্রদের নিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষকদের মাসিক বেতন দেড় লক্ষাধিক টাকা করে দিতে পারছিনা, এর মাঝে এতিম অসহায় ছাত্রদের খাবার নিয়ে বেকায়দায় পরে আছি। মহান আল্লাহপাকের উপর ভরসা করে আছি।
ঝাউচর হেমায়েতপুর সাভার (ঢাকা), জামিআতু ইব্রাহীম (আ.) মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আলহাজ্ব মূফতী শায়খুল হাদীস জাহিদুল ইসলাম বলেন, দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো হিমসিম খেতে হচ্ছে প্রায় ৩৫০ জন ছাত্র এ মাদরাসায় লেখা- পড়া করছে, মহান আল্লাহর রহমতে সকলের দোয়া ও সার্বিকভাবে সহযোগিতায় এ সকল কওমী মাদরাসা চালাতে হয়। ১৯৫ জন এতিম অসহায় কোরআনে হাফেজ ছাত্রদের লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ফ্রি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, ২৫ জন শিক্ষকদের মাসিক প্রায় ৩ লাখ টাকা বেতন দিতে হয়, এই মহামারী করোনা ভাইরাসেরপ্রাদুর্ভাবে হিমসিমখেতে হচ্ছে, তাদের বেতন দিতে পারতেছিনা। তবে ভরসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উপর, আল্লাহর দিন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া অনুদান, আমরা তা গ্রহণ করি নাই। এসব মাদরাসার জন্য অপ্রতুল।

কামরাঙ্গীরচরস্থ হুসনুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবৎ চামড়া খাতে ধসের কারণে কওমী মাদরাসাগুলো কল্পনাতীত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তদুপরি নতুন করে করোনাভাইরাসের এ সংক্রমণ যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা।

মুন্সিগঞ্জ জেলার ৪ টি উপজেলায় শতাধিক আলেম পরিবার কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। মসজিদ-মাদরাসায় দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে সেবার পাশাপাশি তারা বাড়তি কাজ করেও আয় করতো। যে আয় দ্বারা তাদের সংসার চলতো। সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ। মধুপুর জামি`য়া ইসলামিয়া হালিমিয়া মাদরাসার শিক্ষা সচিব আলহাজ হযরত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কাশেমী বলেন, অনেকে অসহায় আলেম পরিবার আল্লাহর উপর ভরসা করে ঘরে বসে আছেন। দুনিয়াবিমুখ ওইসব আলেমরা কারো কাছে কোন করুণা ভিক্ষা করতে রাজি নয়। তাদের দিকে সকলেরই খেয়াল করা উচিত। আল্লাহর দ্বীনের পথে তারা নিবেদিত পরিশ্রমী কর্মী।



   শেয়ার করুন
Share Button
সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 60        
   আপনার মতামত দিন



চেয়ারম্যান: আবুল কালাম আজাদ
কো-চেয়ারম্যান: দেলোয়ার হোসেন।
সম্পাদক: সেহলী পারভীন।
সামসুন নাহার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), ৩১/সি/১ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
টেলিফোন : ০২ ৯৫৫২৯৭৮, ইমেইল : toronggotv@gmail.com, toronggotvnews@gmail.com






   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD