|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  রাজনীতি
  ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো.আব্দুল্লাহর ইন্তেকাল
  Publish Time : 14 June 2020, 9:32:50:AM

মিয়া আবদুল হান্নান : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহিওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ডায়াবেটিসসহ নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছিলেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শেখ নাজমুল হক সৈকত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শেখ নাজমুল হক সৈকত দৈনিক এশিয়া বাণীকে জানান, কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ্য বোধ করলে তাকে দ্রুত সিএমএইচে নেয়ার পথে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গাড়ীতে তার সহধর্মিনীর কাঁধেই তিনি ঢলে পড়েন।

সিএমএইচে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বহু চেষ্টা করার পর তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর কর্মময় জীবন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শেখ মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং মাতা মরহুমা মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।তিনি স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হেফজের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর একই মাদরাসার কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন। তিনি সুলতান শাহী কেকানিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং সুলতান শাহী কেকানিয়া হাই স্কুল থেকে১৯৬১ সালে মেট্রিক পাসের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
তিনি খুলনার আযম খান কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৬৬সালে বিকম (অনার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম কম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও অর্জন করেন।শিক্ষা জীবন শেষে তিনি সুলতান শাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি অ্যাডভোকেট হিসেবে গোপালগঞ্জ জজকোর্ট এবং ঢাকা জজকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি খুলনার আযম খান কমার্স কলেজে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তৎকালিন পূর্বপাকিস্তানে ছয় দফার উত্তাল আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনীতিতে তিনি গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী যুবলীগে যোগদান করেন।এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নির্দেশে গঠিত গোপালগঞ্জ জেলাআওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এরপর১৯৭০ এর নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ব্যাপক নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মুজিব বাহিনীরসঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৩সালে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায়উত্তীর্ণ হন। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশসেবা করার লক্ষ্যে চাকরির পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তার নেতৃত্বে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন তিনি এদায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী সংসদীয় আসন-২১৭,গোপালগঞ্জ-০৩ (টুঙ্গীপাড়া কোটালীপাড়া) আসনে যতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন,আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. শেখ আবদুল্লাহ তার পক্ষে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাত্রিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তারপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শাহাদত বরণ করলে দেশএক কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জীবনে এক দুর্দিন উপনীত হয়। এসময় গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ সব লোভ লালসা, ভয়ভীতি, হুমকি ধামকিউপেক্ষা করে অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা নিয়ে আপসহীনভাবে দলেরপ্রতি অনুগত থাকেন এবং দলের নিবেদিত কর্মী সমর্থকদের আস্থারপ্রতীক হয়ে উঠেন।বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল হয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তিনি কওমি মাদরাসা বোর্ডগুলোর শিক্ষা সনদের অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডেরপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতাও করেছেন তিনি। এছাড়া অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি। এদিকে, করোনা ভাইরাস মহামারীতেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে বিভিন্ন বিষয়য়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এপিএস শেখ নাজমুল হক সৈকত জানান, আজ রোববার প্রধানমন্ত্রীর সাথে
পরামর্শ সাপেক্ষেই মরহুমের নামাজে জানাজা এবং দাফন কাফনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।



   শেয়ার করুন
Share Button
সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 88        
   আপনার মতামত দিন



চেয়ারম্যান: আবুল কালাম আজাদ
কো-চেয়ারম্যান: দেলোয়ার হোসেন।
সম্পাদক: সেহলী পারভীন।
সামসুন নাহার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), ৩১/সি/১ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
টেলিফোন : ০২ ৯৫৫২৯৭৮, ইমেইল : toronggotv@gmail.com, toronggotvnews@gmail.com






   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD