|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  প্রবাস
  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখা বাড়ছে, মালয়েশিয়া থেকে এক মাসে এসেছে ৮৩ বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ
  Publish Time : 16 June 2020, 8:49:31:PM

মিয়া আবদুল হান্নান : মরণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বহির্বিশ্বে লাখ লাখ বাংলাদেশি চাকরি হারানো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন কোম্পানীতে কাজ না থাকায় অনেক প্রবাসী কর্মীই খালি হাতে দেশে ফিরছেন। চলমান মহামারির এ দুর্দিনের মাঝে প্রবাসে মৃত্যু কর্মীদের লাশ দেখে স্বজনদের মাঝে চলছে আহাজারি। বিদেশে মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর লাশ এক নজর দেখার জন্য প্রতিবেশিরাও ছুটে যাচ্ছেন তাদের বাড়িতে। পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে একমুঠো ভালো খাবারের পরিবার পরিজনদের সূখ শান্তির আশায় মধ্য প্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে নানা কারণে অনেক কর্মীই মারা যাচ্ছে। ঋণগ্রস্ত এসকল অসহায় প্রবাসী পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের আর্থিক অভাব অনটনের খবরে মানসিক দুশ্চিন্তা বাড়ছে ,প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাসের কারণে প্রবাসে অনেক প্রবাসী কর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। অভিজ্ঞ মহল এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিমান বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস মহামারীর মাঝেও বিশেষ ফ্লাইট যোগে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে প্রতি সপ্তাহেই মৃত্যু প্রবাসী কর্মীদের লাশ আসছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবত শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর লাশ পড়ে রয়েছে। রিয়াদের একটি হাসপাতাল মর্গেই ৮১টি বাংলাদশি প্রবাসী কর্মীর লাশ পড়ে রয়েছে। এসব লাশ দ্রুত দাফনের জন্য সৌদি আরব সরকার রিয়াদস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসকে দফায় দফায় চাপ দিচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনের অনুমতির অভাবে এসব লাশ বাংলাদেশে পাঠাতে কালবিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে, স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় গিয়ে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী লাশ হয়ে দেশে ফিরছে। গত এক মাসে দেশটি থেকে ৮৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর লাশ দেশে পৌঁছেছে। সোমবার গভীর রাতেও মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট যোগে ১৫ প্রবাসী কর্মীর লাশ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেছে ।এসব লাশের কফিন দেখে অপেক্ষমান আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।মালয়শিয়ায় দেশটিতে কর্মরত অবস্থায় এসব কর্মী হৃদরোগসহ বিভিন্ন কারণে মৃত্যু বরণ করেছে । বিমান বন্দরে কল্যাণ ডেস্কের এডি ফখরুল আলম আজ মঙ্গলবার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে যেসব মৃত্যু প্রবাসী কর্মীর লাশ স্বদেশে পৌঁছেছে তারা হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জের এনামুল হক, আলম শেখ, নারায়ণগঞ্জের শাহাদাৎ আলী, নরসিংদির মাসুদ রানা, কুমিল্লার হুমায়ূন কবির, সিরাজুল ইসলাম, চাঁদপুরের মো.সেলিম, মান্নান গাজী, শরীয়তপুরের সেলিম সরদার, ফেনীরমো.অজিউল্লাহ, যশোরের মো. আবুবকর সিদ্দিক,ও বগুড়ার মো. আইনুল । বাদবাকি তিন জন অবৈধ কর্মী হওয়ায় তাদের নাম জানা যায়নি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৮ সাল থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশটিতে ১০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ কর্মী চাকরি লাভ করে।২০১৭-২০১৮ সালে দশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনপ্রতি তিন লাখ টাকা থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ার দেশটিতে চাকরি লাভ করে। এসব কর্মীর অনেকেই ভিটেমাটি বিক্রিও চড়া সুদে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় গিয়ে অভিবাসন ব্যয়ের টাকাই তুলতে পারেনি। দেশটিতে বর্তমানের বৈধ অবৈধ মিলে ৬ লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী রয়েছে। এসব বাংলাদেশি কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিমাসে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীরা ২২৬ দশমিক মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে। ২০১৯ সালে মালয়েশিয়া থেকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রায় ৪৫ হাজার অবৈধ কর্মীখালি হাতে দেশে ফিরেছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ পরিবহনের ভাড়া বাবদ এবং দাফন কাফনের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকেপ্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে কল্যাণতহবিল থেকে প্রবাসে মৃত্যু কর্মীদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে দেয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর(শ্রম) জহিরুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদেরকে জানান, মৃত্যু বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানীগুলোর।তারা একটি সংস্থার মাধ্যমে মৃত্যু কর্মীদের লাশ বাংলাদেশে পাঠায়।সেক্ষেত্রে হাইকমিশন শুধু লাশ পাঠানোর অনুমতি দিয়ে থাকে। মৃত্যু বাংলাদেশি কর্মীর লাশ দেশে প্রেরণে হাই কমিশনের কোনো গাফলতি নেই বলেও তিনি দাবি করেন। গত এক মাসে দেশটি থেকে ৮৩ জন বাংলাদেশি কর্মীর লাশ স্বদেশে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে বর্তমানে কত মৃত্যু বাংলাদেশি কর্মীর লাশ পড়ে রয়েছে তার কোনো সঠিক সংখ্যা জানা নেই বলে কাউন্সেলর (শ্রম) জানান। তিনি বলেন, মৃত্যু বাংলাদেশি কর্মীর লাশ স্বদেশে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আত্মীয় স্বজনের অনুমতিপত্র লাগে। এ জন্য লাশ পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয় । মালয়েশিয়ার পেনাংস্থ মুসলিম কমিউনিটি অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ও প্রবাসী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন রিপন আজ মঙ্গলবার দৈনিক এশিয়া বাণীকে কে বলেন, মালয়েশিয়ায় অভিবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অনেক আবাসন গুলোই স্বাস্থ্য সম্মত নয়। প্রবাসী কর্মীদের হোষ্টেল গুলোতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস নেই। মালয়েশিয়ার অনেক কোম্পানী আর্থিক সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে কর্মীদেরকে হোষ্টেলে

গাদাগাদি করে রাখে। এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন রিপন বলেন, পরিবারের আর্থিক অভাব অনটনের খবরে মানসিক দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবারের অভাবে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাসের কারণে হৃদরোগে ঝুকিতে আক্রান্ত হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় বহন করে বাংলাদেশি কর্মীরা বিদেশে গিয়ে সর্বদাই মারাত্মক দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তিনি বলেন,কর্মস্থলে যথাযথ নিরাপত্তা আবাসন ব্যবস্থা এ এবং অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই কর্মীদের বিদেশে যেতে হবে। এতে প্রবাসে কর্মীদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



   শেয়ার করুন
Share Button
সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 71        
   আপনার মতামত দিন



চেয়ারম্যান: আবুল কালাম আজাদ
কো-চেয়ারম্যান: দেলোয়ার হোসেন।
সম্পাদক: সেহলী পারভীন।
সামসুন নাহার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), ৩১/সি/১ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
টেলিফোন : ০২ ৯৫৫২৯৭৮, ইমেইল : toronggotv@gmail.com, toronggotvnews@gmail.com






   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD