|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  দেশজুড়ে
  হাজী আব্দুল আলী চেয়ারম্যানের কলা বাগান: এখান থেকেই ব্যবসা সম্প্রসারণ দাড়িয়েছে
  Publish Time : 28 July 2020, 8:08:7:PM

মিয়া আবদুল হান্নান : শখের বসে কলার চারা রোপণ করেছেন ক্ষেতে( ধানি) জমিতে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধর্মশুর গ্রামের ১৯৭১ রণাঙ্গনের বীর সেনানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল আলী দুই বার নির্বাচিত রুহিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। বিভিন্ন বনজ সম্পদ, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ, ফলজাত গাছ,ঔষধি গাছ লাগিয়ে এলাকাকে সবুজের সমারোহ তৈরি করেছেন। যেন পেশাদার আদর্শ কৃষক। প্রায় দুই পাখী জমির মাঝে রয়েছে কলা বাগান বিভিন্ন ধরনের কলা গাছ আজ কলা বাগান। এই কলা বাগান থেকে ২৪ মাসে ৩ বার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম, তবে লাভ বেশি। হাজী আব্দুল আলী চেয়ারম্যান তার বন্ধু- বান্ধব হিতাকাঙ্ক্ষী যারা তার শখের বাগান দেখতে বা ঘুরে ঘুরে দেখেন, কলার ক্বাদী তার ভাগ্যে জুটে যায়। যদি আধপাকা - পাকা কলা গাছে থাকে যেন অতিথি খেদমতের জন্যই কলা বাগান করা। তাই কেরানীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকরা কলা চাষে ঝুঁকে পড়েছে। ঢাকা সদর দক্ষিণ উপজেলা কেরানীগঞ্জ,, নবাবগঞ্জ,দোহার, ধামরাই ও সাভার কলা চাষে আগ্রহ , বেড়েছে ব্যবসা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বর্তমানে ৫ টি উপজেলায় কলার চাষ হয়। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাবমতে, গত মৌসুমে জেলায় কলা চাষ হয় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ঐসকল জমিতে চাষ হয়েছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলার নতুন সোনাকান্দায় ঢাকা কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ দোহার বাস রোডের দু`ধারে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে দুলছে কাদি কাদি কলা গাউর। নবাবগঞ্জ উপজেলার পাতিলঝাপ গ্রামের চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, ২০১০ সালে প্রথম দিকে ভারত থেকে চারশত জয়েন্ট গভর্নর জাতের কলার চারা এনে গ্রামের মাঠের এক বিঘা জমিতে চাষ করেন। সেই থেকে জেলায় ধীরে ধীরে কলার চাষ ছড়িয়ে পড়ে। এখন কেরানীগঞ্জ নবাবগঞ্জ দোহার, সাভার ও ধামরাই উপজেলা থেকে প্রতিদিন ট্রাক - ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দার বিশিষ্ট শিল্পপতি ইয়ারা গ্রুপের কর্ণধার হাজী মোঃ সেলিম জানান, তিনি ৩-৪ বছর ধরে শখে বসবতি হয়ে প্রায় ৭ বিঘা জমিতে কলার চাষ করছেন। এ মৌসুমেও তার ২ বিঘা জমিতে মেহেরসাগর কলার (রং কলা) আবাদ করেছেন। কোনো রাসায়িক সার না দিয়ে তিনি জমিতে গোবর সার দিয়েছেন।তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরের পৌষ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত কলার চারা রোপণ করার সময়। পৌষ-মাঘ মাসে কলার চারা লাগাবার পর জমিতে লেগে গেলে একটি সেচ দিতে হয়। মাটি ঝরঝরে হলে জমি কুপিয়ে দিতে হয়। এরপর গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া চারা কেটে দিতে হয়। এরপর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চাষির মুখে হাসি ফুটবেই।তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে কলার চাষ করতে প্রথম বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিবিঘা জমিতে প্রতিবার চারশত কাঁদি কলা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । যা ক্ষেত থেকে পাইকারি বিক্রি করলে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এভাবে ২ বছরে মোট ৩ বার কলা পাওয়া যাবে। পরের ২ বার সার, কীটনাশক ও পানি সেচ বাবদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে খরচ হয়। কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন রুহিতপুর ইউনিয়নের ভাষানচর - নতুন সোনাকান্দা একই গ্রামের মোঃ তাহের আলী ২ বিঘা ও মোঃ আক্তার হোসেন ৩ বিঘা জমিতে সবরি কলার চাষ করেছেন। তিনি জানান, এ কলার চাষ করার উপযুক্ত সময় বৈশাখ মাস। এক বিঘা জমিতে এ কলার চাষ করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বছরের শেষে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ তিন মাস কলা কাটার উপযুক্ত সময়।

তিনি জানান, কলা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কম ক্ষতি হয়। বছর শেষে খরচ বাদে প্রতি বিঘা জমি হতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ করা যায়।কলা চাষি মোঃ হাসান মিয়া মুঠো ফোনে জানান, মেহেরপুরের কলার চাহিদা দেশের বিভিন্ন জেলায়। তিনি মেহেরপুর থেকে প্রতিমাসে ৫ থেকে ৬ ট্রাক কলা কিনে সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠান।মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন পারভিন বলেন, মেহেরপুরে জয়েন্ট গভর্নর, মেহেরসাগর, দুধসর, সবরি, চাপা, চিনিচাঁপাসহ বিভিন্ন ধরনের পাকা কলার চাষ হচ্ছে। সম্প্রতি কৃষিবিভাগ রান্না করে খাওয়ার জন্য উন্নত জাতের কাঁচকলার চাষ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছে। তিনি একই জমিতে একবার অর্থাৎ ২৪ মাসের বেশি কলার চাষ না করতে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। নাহলে জমির উর্বরতা শক্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান জানান, কলা চাষিদের সমস্যা সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কলায় কার্বাইড ও বিষ স্প্রে না করার জন্য পরামর্শ দেন।



   শেয়ার করুন
Share Button
সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 248        
   আপনার মতামত দিন



চেয়ারম্যান: আবুল কালাম আজাদ
কো-চেয়ারম্যান: দেলোয়ার হোসেন।
সম্পাদক: সেহলী পারভীন।
সামসুন নাহার কমপ্লেক্স (৫ম তলা), ৩১/সি/১ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
টেলিফোন : ০২ ৯৫৫২৯৭৮, ইমেইল : toronggotv@gmail.com, toronggotvnews@gmail.com






   © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD